দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতের কাছে ইউরেনিয়াম বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির মাধ্যমে ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত ইউরেনিয়াম রপ্তানি-সংক্রান্ত সমঝোতা বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হলো। এতদিন ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের আশঙ্কায় এ উদ্যোগ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
তবে দুই দেশের সরকার এখনো জানায়নি, ঠিক কত পরিমাণ ইউরেনিয়াম ভারতকে সরবরাহ করা হবে কিংবা কবে থেকে রপ্তানি শুরু হবে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরিচিত ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। দেশটি নিজস্বভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ বা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করায় উৎপাদিত ইউরেনিয়ামের পুরোটা রপ্তানি করে থাকে।
অন্যদিকে, ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার ভারত ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশটি ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা প্রায় ৬ কোটি ভারতীয় পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
গত এক দশকে ভারত তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করলেও বর্তমানে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ৩ শতাংশ আসে পারমাণবিক শক্তি থেকে।
ভারত এখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর সদস্য নয়। এই চুক্তিতে কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এনপিটি-স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে অ-স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর কাছে ইউরেনিয়াম রপ্তানিতে অনাগ্রহী ছিল।
ভারতের দাবি, এনপিটি বৈষম্যমূলক, কারণ ১৯৬৭ সালের জানুয়ারির আগে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো দেশগুলোকেই কেবল পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরেনিয়াম বাণিজ্যে বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখে পড়েছিল ভারত।
নতুন এই চুক্তিকে ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে নতুন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এপি
এমএস/